
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।
আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, দুই দেশের আলোচনায় বড় কোনো সমাধান আসবে কি না, এ নিয়ে সংশয় বাড়তেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বা ২ দশমিক ৩৮ ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৯৬ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১ দশমিক ৮ শতাংশ বা ১ দশমিক ৭৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল, যা ছিল গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসেনি। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তাই এই রুটে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে সরাসরি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে প্রভাব পড়ে।
ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমও প্রায় অচলাবস্থার দিকে যায় বলে জানা যায়। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আরও গভীর হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা সফল না হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
Leave a Reply