রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বাগেরহাটে নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমরা মাদককে না বলব, সন্ত্রাসকে না বলব এবং খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলব-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এসবি প্রধানের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমস পরিদর্শন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ইতালিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিকল: ৭ ঘণ্টা ধরে বিমানে আটকা ২৬০ যাত্রী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,ডাকছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম এখনো স্বাধীন নয়’ বাগেরহাটে ডা. শফিকুর রহমান চিতলমারীতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান

১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান ও ৫৭৮ নাতি-নাতনি নিয়ে উগান্ডার কৃষকের বিশাল সংসার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বর্তমান যুগে যেখানে একটি বা দুটি সন্তান লালন-পালন করতেই আধুনিক দম্পতিরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এক নজির গড়েছেন আফ্রিকার এক সাধারণ কৃষক। উগান্ডার বাসিন্দা মুসা হাসাহিয়ো কাসেরা নামের এই ব্যক্তি নিজের বিশাল পরিবারের কারণে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁকে রসিকতা করে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উর্বর পুরুষ’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

৬৮ বছর বয়সী মুসার সংসারে রয়েছে ১২ জন স্ত্রী, ১০২ জন সন্তান এবং ৫৭৮ জনেরও বেশি নাতি-নাতনি। তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা এতই বেশি যে, তা ছোটখাটো একটি গ্রামের জনসংখ্যার সমান। বিশাল এই পরিবারটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ইউটিউব ও ফেসবুক-টুইটারে কৌতুহলের শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুসার বাড়িতে সব সময়ই একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। তবে এত বড় পরিবারের প্রতিদিনের রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। একসঙ্গে সবার খাওয়ার জায়গা না হওয়ায় অনেক সময় কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে খেতে হয়। মুসা নিজেই স্বীকার করেছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম স্পষ্ট মনে থাকলেও মাঝের অনেকের নামই তিনি গুলিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা এড়াতে একটি পুরোনো নোটবুকে সব সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রেখেছেন তিনি।

পরিবার এত বড় করার পেছনে আফ্রিকার গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে বলে জানান মুসা। সাব-সাহারান আফ্রিকার অনেক সমাজে এখনো বড় পরিবারকে শক্তি, সামর্থ্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক মনে করা হয়। তা ছাড়া কৃষিনির্ভর পরিবার হওয়ায় মাঠে কাজ করার জন্য বাড়তি মানুষের প্রয়োজনও একটি বড় কারণ ছিল। তাঁর স্ত্রীদের অনেকেরই অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল।

তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিশাল পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মুসাকে। আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ হলেও খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, তাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এই কারণে মুসা জানিয়েছেন, তিনি আর নতুন করে কোনো সন্তান চান না। এমনকি স্ত্রীদেরও এখন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

মুসার এই যাপন পদ্ধতি ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই মানুষটি একাই একটি গ্রাম তৈরি করে ফেলেছেন।” আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে সব সন্তানের সঠিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না।

যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তাঁর স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় কোথাও ১২ জন আবার কোথাও ৮ জনের কথা বলা হয়েছে, তবে ১০২ সন্তান ও ৫৭৮ নাতি-নাতনির তথ্যটি সবখানেই নিশ্চিত করা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক বিশ্ব যখন ছোট ও পরিকল্পিত পরিবারের দিকে ঝুঁকছে, তখন উগান্ডার এই কৃষকের গল্প গ্রামীণ আফ্রিকার জনসংখ্যা ও সামাজিক বাস্তবতার এক ভিন্ন চিত্র মনে করিয়ে দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews