1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান ও ৫৭৮ নাতি-নাতনি নিয়ে উগান্ডার কৃষকের বিশাল সংসার যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পবিত্র হজ পালনে সস্ত্রীক সৌদি গেলেন সেনাপ্রধান শনিবার ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে কৃষকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ৪ দিন পর মামলা দায়ের চিতলমারীতে গাঁজাসহ আটক তরুণ মুচলেকায় মুক্ত জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী কৌশলে এগিয়ে থাকতে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই-জাতীয় সংসদের হুইপ পাইকগাছায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত সুন্দরবনে দুই দস্যুবাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলে উদ্ধার

১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান ও ৫৭৮ নাতি-নাতনি নিয়ে উগান্ডার কৃষকের বিশাল সংসার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বর্তমান যুগে যেখানে একটি বা দুটি সন্তান লালন-পালন করতেই আধুনিক দম্পতিরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এক নজির গড়েছেন আফ্রিকার এক সাধারণ কৃষক। উগান্ডার বাসিন্দা মুসা হাসাহিয়ো কাসেরা নামের এই ব্যক্তি নিজের বিশাল পরিবারের কারণে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁকে রসিকতা করে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উর্বর পুরুষ’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

৬৮ বছর বয়সী মুসার সংসারে রয়েছে ১২ জন স্ত্রী, ১০২ জন সন্তান এবং ৫৭৮ জনেরও বেশি নাতি-নাতনি। তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা এতই বেশি যে, তা ছোটখাটো একটি গ্রামের জনসংখ্যার সমান। বিশাল এই পরিবারটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ইউটিউব ও ফেসবুক-টুইটারে কৌতুহলের শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুসার বাড়িতে সব সময়ই একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। তবে এত বড় পরিবারের প্রতিদিনের রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। একসঙ্গে সবার খাওয়ার জায়গা না হওয়ায় অনেক সময় কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে খেতে হয়। মুসা নিজেই স্বীকার করেছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম স্পষ্ট মনে থাকলেও মাঝের অনেকের নামই তিনি গুলিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা এড়াতে একটি পুরোনো নোটবুকে সব সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রেখেছেন তিনি।

পরিবার এত বড় করার পেছনে আফ্রিকার গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে বলে জানান মুসা। সাব-সাহারান আফ্রিকার অনেক সমাজে এখনো বড় পরিবারকে শক্তি, সামর্থ্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক মনে করা হয়। তা ছাড়া কৃষিনির্ভর পরিবার হওয়ায় মাঠে কাজ করার জন্য বাড়তি মানুষের প্রয়োজনও একটি বড় কারণ ছিল। তাঁর স্ত্রীদের অনেকেরই অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল।

তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিশাল পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে মুসাকে। আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ হলেও খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, তাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এই কারণে মুসা জানিয়েছেন, তিনি আর নতুন করে কোনো সন্তান চান না। এমনকি স্ত্রীদেরও এখন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

মুসার এই যাপন পদ্ধতি ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই মানুষটি একাই একটি গ্রাম তৈরি করে ফেলেছেন।” আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে সব সন্তানের সঠিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না।

যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তাঁর স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় কোথাও ১২ জন আবার কোথাও ৮ জনের কথা বলা হয়েছে, তবে ১০২ সন্তান ও ৫৭৮ নাতি-নাতনির তথ্যটি সবখানেই নিশ্চিত করা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক বিশ্ব যখন ছোট ও পরিকল্পিত পরিবারের দিকে ঝুঁকছে, তখন উগান্ডার এই কৃষকের গল্প গ্রামীণ আফ্রিকার জনসংখ্যা ও সামাজিক বাস্তবতার এক ভিন্ন চিত্র মনে করিয়ে দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট