
ডেস্ক:: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতকে কেন্দ্র করে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় এসব স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা ও চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
চীনের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে) বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ এই আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৩টি MoU স্বাক্ষরিত হয়, যা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে আগামীকাল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) বেইজিংয়ের গ্রেট হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, উভয় বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নেওয়া।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
এছাড়া জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।