বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক স্বত্ব বিতর্কে ক্ষমা চাইল ফিফা পশ্চিমবঙ্গে আজান বন্ধে খুলে নেওয়া হচ্ছে মসজিদের মাইক র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ অনুশ্রী ও রাকিবের স্বপ্নপূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মৎস্য পক্ষ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় বাইসাইকেল, ভ্যান ও সেলাই মেশিন বিতরণ নির্বাচিত না হলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছি- কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বাগেরহাট খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজে পালিত হয়নি জুলাই গনঅভ্যুথ্যান দিবস খুলনায় ইমাম হুসাইন (আ.)’র পবিত্র চেহলুম পালিত জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

খুলনায় ইমাম হুসাইন (আ.)’র পবিত্র চেহলুম পালিত

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র, কারবালার শহীদ সম্রাট ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশা বা চেহলুম উপলক্ষ্যে খুলনায় গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। বুধবার (৫ই আগস্ট) বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে নগরীর আলতাপোল লেনস্থ আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ইমামবাড়িতে খুলনা বিভাগীয় চেহলুম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে আলোচনা সভা, শোকসভা এবং মাতম মিছিল অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত হাজারো ধর্মপ্রাণ মুমিন ও মোমেনাহ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভার সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের সম্মানিত অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। তিনি বলেন, “কারবালা প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানবতার মুক্তির এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। দুনিয়ার কোনো জালিম ও শাসকগোষ্ঠী সত্য ও সুন্দরের এই আদর্শকে স্তব্ধ করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। ইমাম হুসাইনের আদর্শ আজ বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের প্রেরণার উৎস যা অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে যুগে যুগে সংগ্রামের শিক্ষা দেয়।”
তিনি আরও বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের স্মরণ কেবল আবেগের প্রকাশ নয়, বরং এটি জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেক মুসলমানের কাছে একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের “আল মোস্তফা (আ.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের” ঢাকাস্থ প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন জনাব ড. শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী। তিনি উপস্থিত জনতাকে সম্বোধন করে বলেন, আপনারা দুনিয়াবী কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে উপস্থিত হননি; বরং একমাত্র হযরত ইমাম হুসাইনের (আ.) ত্যাগ ও ভালোবাসাই আপনাদেরকে এখানে সমবেত করেছে। তাই আমরা সকলেই যেন আমাদের জীবনের সমস্ত দিক ও বিভাগে তাঁর আদর্শকে প্রতিফলিত করতে পারি! আমরা যেন কখনই কোনো অন্যায়ের নিকট মাথানত না করি!
উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ইরানী কালচারাল কাউন্সিলর জনাব সাইয়্যেদ মাহদী মওলায়ী আরানী। তিনি বলেন, মহানবী(সা.) বলেছেন, নিশ্চয় হুসাইন হেদায়েতের আলোকবর্তিকা এবং নাজাতের তরী। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রাণপ্রিয় নাতী হযরত হাসান ও হুসাইন (আ.)-কে নিজের সন্তান বলে অভিহিত করতেন। এছাড়াও তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের সর্দার।” (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং-৩৭২০।)
এছাড়াও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুজাজুল ইসলাম সৈয়দ আলী রেজা জায়দী, আব্দুল কুদ্দুস বাদশা, মিজানুর রহমান, মো. আব্দুল লতিফ, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ড. আব্দুল কাইউম, শেখ আলী আকবর, সৈয়দ ফিরোজ আলী আবেদী, শামীম হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মো. মোস্তাক, সাজিদুল ইসলাম, শহিদুল হক, আনিসুর রহমান, মো. মুজাফ্ফর, আবু সাঈদ, মাজিদুল ইসলাম, আবুজার ইসলাম, ড. আ. হান্নান, মাহমুদ হোসেন, সৈয়দ মুরাদ হোসেন, আলহাজ্ব মাওলানা মো. ইবরাহীম ফয়জুল্লাহ, এ্যাড. রুহুল আমিন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমানসহ বাংলাদেশের আরও প্রায় ৫০ জন বিশিষ্ট আলেম।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশিষ্ট আলেম ও আহলে বাইত প্রেমিক মাওলানা আলহাজ্ব মঞ্জুরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পৃথিবীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুটি দল সৃষ্টি করেছেন। একটি হল আল্লাহর দল ও অপরটি হলো শয়তানের দল। এখন আমাদের জানতে হবে আল্লাহর দল কারা, যারা আল্লাহর রাসুল এবংতার আহলে বাইতকে ভালোবাসে এবং তাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করে দেয় সেই দলটি হলো আল্লাহর দল, অপর দলটি হলো বিপরীত যারা শয়তানের উপসনা করে আল্লাহর আইন অমান্য করে এবং কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে তারই হচ্ছে শয়তানের দল।
আলোচনা সভার পর বের করা হয় শোক ও মাতম মিছিল। মিছিলে “আল্লাহু আকবার”, “ইয়া রাসুলাল্লাহ”, “ইয়া হুসাইন” প্রভৃতি ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নগরীর বিভিন্ন এলাকা। এতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুমিন ভাই ও বোনেরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতি বছর মুসলিম বিশ্বে ২০শে সফর তারিখে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশা বা চেহলুম পালিত হয়। ৬১ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইয়াযিদের সৈন্যদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন হযরত ইমাম হুসাইন (আ.), তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীসহ মোট ৭২জন সদস্য। সেই থেকে এ দিনটি শোক, প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews