1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আমরা সকল ধর্মের মানুষ একটি সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ আছি- নজরুল ইসলাম মঞ্জু কোস্টগার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুতে নিঃস্ব খামারি, মরেছে ৮ হাজার মুরগি, ঋণের চাপে দিশেহারা পরিবার এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান- এমপি আবুল কালাম আজাদ যেভাবে খামেনিকে হত্যার ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছিল মোসাদ ও সিআইএ ইরানের ২৪ লাখের সস্তা ড্রোন ঠেকাতে আমেরিকার ব্যয় ৪৯ কোটি কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন দৃষ্টান্ত ভোটের দুদিন আগে নিজেকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করে গেছেন ড. ইউনূস

খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তারেক রহমান ও বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আজ এক বিষণ্ণ আর নিস্তব্ধ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত হয়েছে এক অনন্য নাগরিক শোকসভা।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার বিশাল চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন জিয়া পরিবারের সদস্যরা, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ।

শুক্রবার দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ শোকসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শীত আর বিষণ্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই দুপুরের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ কালো ব্যাজ ধারণ করে অনুষ্ঠানস্থলে জমায়েত হতে শুরু করেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আকাশ বাতাস যেন এক অপূরণীয় শূন্যতার সাক্ষ্য দিচ্ছিল। শোকসভার মূল আকর্ষণ ছিল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতি।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জিয়া পরিবারের সদস্যদের এ প্রথম কোনো বড় প্রকাশ্য নাগরিক জমায়েতে অংশগ্রহণ। তারেক রহমানের সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলটির প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতা এ শোকসভায় অংশ নিয়েছেন। তবে তারা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নয়, বরং একজন জাতীয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী কূটনীতিকরা এ শোকসভায় যোগ দিয়ে বাংলাদেশের এ কিংবদন্তি নারী নেত্রীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এ শোকসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর ব্যতিক্রমী ব্যবস্থাপনা। আয়োজক কমিটি অর্থাৎ নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। শোকসভার গাম্ভীর্য বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলের কোনো নেতা আজ মঞ্চে বক্তব্য দেবেন না। বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দর্শকসারির প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন। মঞ্চে কেবল দেশের শীর্ষস্থানীয় পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক এবং ধর্মীয় প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবন, সংগ্রাম এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখছেন।

বক্তারা বেগম জিয়াকে গণতন্ত্রের আপসহীন প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন।

শোকসভাকে কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ না বানিয়ে একে সত্যিকারের শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়। শোকের আবহে কোনো ধরনের হাততালি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য নষ্ট হয় এমন কোনো আচরণ, যেমন, বারবার সেলফি তোলা বা দাঁড়িয়ে থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের নীরব থেকে কেবল বক্তাদের স্মৃতিচারণ শোনার আহ্বান জানানো হয়।

দেখা গেছে, উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এ নির্দেশনা মেনে শোক পালন করছেন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকা এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোয়ায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। ভিভিআইপি এবং বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতির কারণে পুরো এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শোকসভায় আসা সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোক। উপস্থিত অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিককে নীরবে অশ্রু বিসর্জন করতে দেখা গেছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রতিটি কোণায় পিনপতন নীরবতা বজায় রেখে মানুষ ডিজিটাল স্ক্রিনে মঞ্চের বক্তব্য শুনছেন। এটি কেবল একটি দলের নেত্রীর প্রতি শোক নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিশাল অধ্যায়ের অবসান উপলক্ষে জাতীয় শোকের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এ নাগরিক শোকসভা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে একজন নেত্রীর সম্মানে অরাজনৈতিক মঞ্চ গঠন এবং সেখানে কেবল গুণের বিচারে স্মৃতিচারণ, এমন আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না।

তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং নাগরিক সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের প্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও শোকসভার গাম্ভীর্য কমেনি। দেশি বিদেশি বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটার কথা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট