1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম মার্কিন বোমারু বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৮ ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র একনেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন বিশ্বকাপে প্রধানমন্ত্রী কোন দলের সাপোর্টার, জানালেন নিজেই পাইকগাছায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন: জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাইকগাছায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে লিডার্সের লবণসহিষ্ণু ব্রি ধান-৮৭ বীজ বিতরণ নগরীতে ম্যাটেরিয়াল রিকভারী সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্তমান সরকার দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধায় সিক্ত শহীদ মিনার

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির শোক, শক্তি ও গৌরবের অবিনাশী দিন। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা ১ বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা বাজার আগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এর ঠিক পরেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মাইকে বাজছিল অমর একুশের সেই কালজয়ী সুর, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাঁদের স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষাশহীদদের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দলীয় প্রধান হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি ছিল আবেগঘন।

তিনি তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে আসেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করেন।

শহীদ মিনার এলাকায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভিড় সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুরো এলাকা ৬৪টি ক্লোজড সার্কিট টিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। পুলিশের নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ক্রাইম সিন ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শাহবাগ, নীলক্ষেত, পলাশী ও চানখাঁরপুলসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীকে পলাশী মোড় হয়ে জগন্নাথ হল ক্রসিং দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার পথ হিসেবে দোয়েল চত্বর বা চানখাঁরপুল ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সাদা কালো পোশাকে, হাতে ফুলের তোড়া আর কণ্ঠে একুশের গান নিয়ে হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে শহীদ মিনারের দিকে এগোতে থাকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ২০২৪ এর গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রথম একুশ উদযাপনে মানুষের মধ্যে এক নতুন ধরনের উদ্দীপনা দেখা গেছে। জাতীয় নেতৃত্বের সম্মিলিত উপস্থিতি এবং সর্বস্তরের মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে যে ১৯৫২ এর একুশের চেতনা আজও বাংলাদেশের প্রতিটি লড়াই ও জয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট