
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পার্শেমারি মৌজায় মৎস্য লীজ ঘেরের জমি ভাগাভাগি নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ ও এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, পাইকগাছা বাজারের পোনা ও ঘের ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম প্রায় ১০ বছর ধরে পার্শেমারি মৌজায় হারীকৃত ১৭০ বিঘা জমিতে মৎস্য লীজ ঘের পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, উক্ত ঘেরের মধ্যে ভিলেজ পাইকগাছার মৃত নাসির সরদারের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ও একই গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন মোল্লার জমিও রয়েছে। তিনি তাদের কাছ থেকে হারী নিয়ে দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ঘের পরিচালনা করে আসছিলেন।
অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদ ও বিল্লাল হোসেন মোল্লা জানান, ২০২৫ সালে রেজাউল করিমের সঙ্গে সম্পাদিত ডিডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে তারা দু’জনই নিজেদের জমি ও হারীকৃত জমি পৃথকভাবে মৎস্য লীজ ঘের করার লক্ষ্যে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করছেন। তাহারা আরো জানান, রেজাউল করিম তাদের জমি মাপজোপ করে বাহির না করে দিয়ে হয়রানি করছে। এবং বাঁধ বন্দী দিতে দিবে না বলে, রাতের আঁধারে ঘেরে পানি তুলে দিয়েছে।
এদিকে রেজাউল করিমের অভিযোগ, ডিডের মেয়াদ শেষ হলেও জমি মাপজোক ও পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া হঠাৎ করে জোরপূর্বক বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তার লীজকৃত ঘেরে ক্ষয়ক্ষতি করা হচ্ছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন এবং পরে এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আয়ূব হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি উভয় পক্ষকে সাময়িকভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়। ঐদিন বিকেলে থানায় উভয় পক্ষের বসার সময় নির্ধারণ করা হলেও বিল্লাল মোল্লা ও আবুল কালাম আজাদ নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাঁধ নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন। এ প্রেক্ষিতে রেজাউল করিম বসাবসিতে উপস্থিত না হয়ে শনিবার রাতেই থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয় থানা অফিসার মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে দেখছি।
Leave a Reply