
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরাদ ও ডিমোনা শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং নারী-শিশুসহ আরও ৮৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আল-জাজিরা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন এই হতাহতের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরাদ শহরের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ৮৮ জনের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ১৯ জন মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরাদের পাশাপাশি ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ডিমোনাতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। উল্লেখ্য, এই ডিমোনা শহরেই দেশটির পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সেখানে একাধিক ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) নিশ্চিত করেছে যে, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটি বর্তমানে নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আরুতজ শেভা’র তথ্যমতে, ইরানের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) দুইবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কেন এবং কীভাবে এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লোকালয়ে আঘাত হানলো, তা নিয়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
এই ভয়াবহ হামলার পর আরাদ শহরের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
আজ রবি ও আগামীকাল সোমবার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন।
Leave a Reply