
ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক:: বাংলাদেশের শিল্পায়ন এবং শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এক যুগান্তকারী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে তিনি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ধ্বংস হওয়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে বেকারত্ব দূরীকরণ, নতুন বিনিয়োগ এবং শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনা।
সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি শ্রমিকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণের রায়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল ধুঁকতে থাকা শিল্প খাতকে টেনে তোলা। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই সপ্তাহেই একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে নির্ধারিত হবে ঠিক কত দ্রুত এবং কোন প্রক্রিয়ায় বন্ধ কারখানাগুলোর চাকা আবার সচল করা যায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, কারখানা চালু হওয়া মানে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং হাজার হাজার পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ দেশের প্রতিটি শ্রেণি, পেশার মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশের শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি আমদানিনির্ভর দেশে পরিণত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র, জনতার মহাবিপ্লব ছিল এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত রায়। স্বৈরাচারী শাসনামলে লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী ভাই, বোনদের ওপর।
কেবল পুরনো কারখানা চালু নয়, বরং আধুনিক ও যুগোপযোগী নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরিতেও বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার ইতিমধেই দেশি ও বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সাথে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলা এবং আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিয়ে রপ্তানি বাড়ানো হবে।
ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং হকারদের জীবনজীবিকার ভারসাম্য রক্ষা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী এক মানবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি হকার উচ্ছেদ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বুঝি হকারদেরও পরিবার আছে। কেবল উচ্ছেদ করে কাউকে পথে বসানো আমাদের লক্ষ্য নয়।
তিনি সিটি কর্পোরেশনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, উচ্ছেদের পাশাপাশি তাঁদের পুনর্বাসনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে হকারদের জন্য আধুনিক ও সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি সমাবেশকে আশ্বস্ত করেন।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলেন, শ্রমিক ভালো থাকলে, বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমিক শ্রেণি। তাঁদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের মূল সাফল্য।
নয়াপল্টনের এই সমাবেশটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি ছিল আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একটি অঙ্গীকারপত্র। শ্রমজীবী মানুষের গগনবিদারী স্লোগান আর প্রধানমন্ত্রীর আশাবাদের মধ্য দিয়ে সূচিত হলো এক নতুন অর্থনৈতিক সংগ্রামের সূচনা।
Leave a Reply