শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম’র বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পেয়েছে কর্মকর্তা পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ আটক ১৩ সেন্টমার্টিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্টগার্ড মরক্কোর প্রতিশোধ, নাকি ফ্রান্সের পুনরাবৃত্তি কুয়েত ও বাহরাইনে ফের হামলা চালাল ইরান পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব হলেন ১৭২ কর্মকর্তা সুরা বাকারার ২৯ নং আয়াত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত কোস্টগার্ডের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন অবশেষে বেনাপোলে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপে বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা কাটল

প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম’র বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পেয়েছে কর্মকর্তা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

চিতলমারী প্রতিনিধি:: বাগেরহাটের চিতলমারীর কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্মের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সতত্যা পেয়েছেন। দীর্ঘ তিন মাস পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। নিরপেক্ষ তদন্ত করায় প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম প্রকাশ্যে শিক্ষা কর্মকর্তাকে গালমন্দ করেন। অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি তিনি ধামাচাপা দিতে তিনি নেতাদের দিয়ে অভিযোগকারী শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভূক্তভোগী শিক্ষকরা জানিয়েছেন এক নেতার হুমকি-ধামকিতে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে পড়েছেন। এতেও ক্ষান্ত হননি প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম। তিনি নেতাদের নিয়ে এখন প্রশাসনের দ্বারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। এরপর প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। চব্বিশের ৫ই আগষ্টের পর নিজে বাঁচতে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেন। নিরীক্ষা কমিটি ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা করেন। উক্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠায় প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে প্রধান শিক্ষক মন্তব্য করেন। ফলে নিরীক্ষা কমিটিসহ ওই স্কুলের ৭ জন সহকারি শিক্ষক ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। পরবর্তীতে তদন্ত কাজ সুষ্ঠ ও দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করার জন্য ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সম্পূক্ত করেন। কিন্তু সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান একাই একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বিষয়টি ২০২৬ সালের মার্চে মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় উত্থাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে অধিকতর নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ গত ১ জুলাই নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। রিপোর্ট দাখিলের খবর শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম।
কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদার, সুশান্ত কুমার ব্রহ্ম ও স্মৃতি রাণী ঘরামী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম ক্ষমতা অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় আমরা বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২ জন কর্মকর্তা সমন্বয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু বহু তালবাহানা শেষে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান একাই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। ওই রিপোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ গত ১ জুলাই নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। রিপোর্ট দাখিলের খবর শুনে তিনি শিক্ষা কর্মকর্তা ম্ঃো আল মুরাদকে প্রাকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। সম্প্রতি তিনি স্কুলে নেতাদের ডেকে আমাদের বিরুদ্ধে উস্কে দেন। সেখানে উপস্থিত এক নেতা বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য আমাদের নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেন।’
এ ব্যাপারে কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। ওনার কাজ উনি করেছে। আমার কাজ আমি করব।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ জানান, তদন্তে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন নিরীক্ষা কমিটির ৩ সদস্যদের হিসাব সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমান মিলেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। রিপোর্টটি পুঙ্খানু পুঙ্খানু ভাবে যাচাই বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews