
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: খুলনার পাইকগাছায় পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতঘরের টিন ও বেড়া খুলে নেওয়া, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাদী আমেনা বেগম ও তার জামাতা মো. আমির হামজা দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার গোপালপুর মৌজায় আমেনা বেগমের মালিকানাধীন জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, মরহুম আফিল গাজীর প্রথম পক্ষের (স্ত্রীর) ছেলে রবিউল ইসলাম (গোলাম রব্বানী) ও মেয়ে শাহিনা বেগম ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করেন। গত ১ জুন তারা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বসতঘরের টিন ও বেড়া খুলে নেওয়া, ভাঙচুর এবং আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ায় মোট ২ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করেন আমেনা বেগম। এ সময় বাধা দিলে বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে পাইকগাছা থানায় বাদী আমেনা বেগমের জামাই আমির হামজা অভিযোগ করলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি।
বাদীপক্ষের দাবি, আফিল গাজী ২০২৪ সালের ১০ জুন একটি হেবা দলিলের মাধ্যমে ৯ শতক ২৫ পয়েন্ট জমি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আমেনা বেগমের নামে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জমিটির নামজারি সম্পন্ন হয়। এছাড়া তাদের দাবি, ওই জমিতে করা বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ও বিদ্যুতের মিটারও আমেনা বেগমের নামে রয়েছে।
অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের দাবি, হেবা দলিলে আফিল গাজীর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে থানায় অভিযোগের সুরাহা না হওয়ায় গত ৪ জুন আমেনা বেগম বাদী হয়ে পাইকগাছায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. কামরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম (গোলাম রব্বানী)সহ চারজনকে আসামি করে একটি মামলা (সিআর-৩৮৪/২৬) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব পিবিআই, খুলনাকে প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পিবিআই খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই (এসএস) পলাশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরেজমিন তদন্ত করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (এসএস) পলাশ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।