
চিতলমারী প্রতিনিধি:: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও পাঁচজন সহকারি শিক্ষকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম’র বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতিরর তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও’র কাছে জমা দিয়েছেন। সেই তদন্ত প্রতিবেদন অন্যায়, বেআইনী ও বাতিল চেয়ে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম সিভিল জজ আদালতে এ মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নোটিশ প্রাপ্তির পর সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। চব্বিশের ৫ই আগষ্টের ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রভাত কুমার মজুমদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিটি হয়। নিরীক্ষা কমিটি ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা করেন। উক্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে। নিরীক্ষা কমিটিসহ ওই স্কুলের ৭ জন সহকারি শিক্ষক ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। পরবর্তীতে তদন্ত কাজ সুষ্ঠ ও দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করার জন্য ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সম্পূক্ত করেন। কিন্তু সমবায় কর্মকর্তা মোল্লা সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান একাই একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বিষয়টি ২০২৬ সালের মার্চে মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় উত্থাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে অধিকতর নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ গত ১ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। রিপোর্ট দাখিলের পর প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল চেয়ে চিতলমারী সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম’র মোবাইল ফোনে বারবার রিং দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মামলার বিবাদী প্রভাত কুমার মজুমদার, সুশান্ত কুমার ব্রহ্ম ও স্মৃতি রাণী ঘরামী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম ক্ষমতা অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় আমরা বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২ জন কর্মকর্তা সমন্বয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা প্রদানের নির্দেশ দেন। তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান একাই তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। ওই রিপোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ গত ১ জুলাই নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, বিধি সম্মত ও তথ্য প্রমান ভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। সেই জন্য প্রধান শিক্ষক আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এটা অন্যায়। আমরা আইনজীবির মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে জবাব দিব।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল মুরাদ বলেন, ‘তদন্তে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন নিরীক্ষা কমিটির ৩ সদস্যদের হিসাব সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমান মিলেছে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। গতকাল ২৬ জুলাই মামলার নোটিশ পেয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম’র করা মামলার নোটিশ পেয়েছি।’