বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ স্কুলের ভেতরে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষিকা, খুনি অমিত গ্রেফতার যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী পানি ব্যবস্থাপনায় টেকসই সমাধানে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিলেন প্রধানমন্ত্রী পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা খুলনায় নৌযান শুমারি বিষয়ক জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে ঘরের ভিতর থেকে মা, ছেলে ও নানির গলিত লাশ উদ্ধার ঘোড়াঘাটে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। মোংলার জয়মনিতে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে কোস্টগার্ড বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দিন। দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে। শহীদদের রক্তে অর্জিত এ দিনটি এখন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বহু মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে বলে বাণীতে উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধে দেশে শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে বহু মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয় এবং অনেককে গুম করা হয়। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়। একই সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, পোশাকশ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলেন। আন্দোলন দমাতে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল এবং মায়ের কোলে থাকা শিশুও রক্ষা পায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের ফলেই ফ্যাসিস্ট সরকার, মন্ত্রিসভা, কথিত সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল দৃষ্টান্ত।

তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের প্রতি জাতি ঋণী। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে অর্জিত জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয় হলেও তা যেন কখনো বিভেদ বা শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশকে কোনোভাবেই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews