1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন পাইকগাছায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে গদাইপুর ব্লাড ব্যাংকের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ইরানে ২ ইসরায়েলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সিলেটে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী খালিশপুর ইমারত নির্মাণ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে মে দিবস পালিত বটিয়াঘাটার মাইলমারা গ্ৰামে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে পাইকগাছায় কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির বাৎসরিক বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত মহান মে দিবস সফল করতে খালিশপুরে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালি পতেঙ্গা থেকে ৬০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড

সিলেটে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক:: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে সিলেট নগরী থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের সূচনা করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় সংস্কারের অভাবে নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকার পুনরায় এই খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনসভায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাসিয়া নদী বা এই খালটি ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি আবারও ভরাট হয়ে যায়। আমরা আজ এটি পুনঃখননের কাজ শুরু করলাম যাতে এই অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই প্রকল্পের ফলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার কৃষক পরোক্ষভাবে সুফল পাবেন। নদীটি পুনঃখনন করা হলে খালের দুই পাশের জমিতে বছরে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদিত হবে। তিনি ঘোষণা করেন, কেবল সিলেটেই নয়, সারা বাংলাদেশে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে আরও অসংখ্য খাল ও নদী পুনঃখনন করা হবে।

তারেক রহমান তাঁর সরকারকে কৃষকবান্ধব সরকার হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আমি কথা দিয়েছিলাম ক্ষমতায় গেলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা বিশেষ কৃষি কার্ড দেব। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল থেকে আমি এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছি। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সকল প্রকৃত কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সার, বীজ, ঋণ ও কীটনাশক সহায়তা প্রদান করা হবে।

প্রতি বছর কৃষককে সরাসরি ২৫০০ টাকা প্রদান করা হবে, যাতে তাঁরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি উপকরণ কিনতে পারেন। ইতিমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদে আসলে ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রামের মানুষকে ভালো রাখা। যেহেতু দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে, তাই তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০টি স্থানে একযোগে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাসিয়া নদীর মোট ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। খনন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন করতে আমাদের দুটি শুষ্ক মৌসুম লাগবে। এখন বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজে কিছুটা ধীরগতি আসতে পারে, তবে আগামী নভেম্বর থেকে পূর্ণোদ্যমে পুনরায় খনন শুরু হবে।

ইনশাআল্লাহ, আগামী বছরের মধ্যে আমরা ২৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ করতে পারব, যাতে এই অঞ্চলের মানুষ পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। কেবল খনন নয়, খালের দুই তীরের পরিবেশ রক্ষায়ও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২৩ কিলোমিটার খালের দুই পাড় দিয়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন খালের পাড় ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে স্থানীয়রা গাছের ছায়ায় বসার সুযোগ পাবেন। এছাড়া এখানে প্রচুর পরিমাণে ফলজ গাছ লাগানো হবে যাতে এলাকার মানুষ পুষ্টি ও ফলমূলের চাহিদা মেটাতে পারে।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে সকল বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া হবে। আমি গত কয়েক দিন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বসে তালিকা তৈরি করেছি। ইনশাআল্লাহ, সব কারখানা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের মূল মন্ত্র হলো কাজ, কাজ আর কাজ। আমরা কথা কম বলে কাজে বিশ্বাসী। আপনারা সাথে থাকলে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে দাঁড় করাব। আমরা সবার আগে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগ রক্ষাকারী এই বাসিয়া নদী দীর্ঘকাল নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই মহতী উদ্যোগের ফলে সিলেটের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিলেটের বাসিয়া নদী পুনঃখনন কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি শহীদ জিয়ার দর্শনেরই প্রতিফলন। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্ত করার মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ প্রথম নীতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই খনন কাজের সূচনা তারই এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট