
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্য প্রশাসনে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক রদবদল, সীমান্ত নীতি, আইনশৃঙ্খলা অভিযান এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অনেককে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দলটি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক পর্যায়ে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারসহ কয়েকজন শীর্ষ আইপিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর সামনে আসে। আরজি কর হাসপাতাল সংক্রান্ত একটি ঘটনার ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করছে।
এছাড়া একটি শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে দ্রুত ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শ্রমিকদের পুনর্বাসন না করে দ্রুত উচ্ছেদমূলক ব্যবস্থা নেওয়া মানবিক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্য একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জনসমক্ষে পশু কোরবানি নিষিদ্ধ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে রাস্তা বন্ধ করে কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। একইসঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়ে শব্দ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশনাও জারি হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন-যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো সামনে আসেনি।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সামাজিক নীতি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
Leave a Reply