সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বিশ্বকাপে অপ্টার পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা মিলল? মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাত, কাঁপছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ ৭৫৯ কোটি, চোখ কপালে দরিদ্র গৃহবধূর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার এক বছরের খাবার খরচই ছিল ৩৫ কোটি টাকা-সংসদে অর্থমন্ত্রী সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর শেষ শ্রদ্ধা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মাথাভাঙ্গায় আলুতলা স্লুইচ গেটের সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন কেসিসি প্রশাসক দাকোপে গ্রামীন সড়কে চলছে গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ভারী ট্রাক: ঝুঁকিপূর্ন চলাচল বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে পাইকগাছায় ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার

হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির রঙিন উপহার: পাইকগাছায় বিলুপ্তির পথে ‘আমঝুম’

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন:পাইকগাছা(খুলনা):: একসময় গ্রামবাংলার পরিচিত বুনো ফল হিসেবে সর্বত্র দেখা মিললেও এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে ওষুধিগুণে ভরা দেশীয় ফল ‘আমঝুম’। পরিবেশের পরিবর্তন, বন-জঙ্গল ও ঝোপঝাড় উজাড় হওয়া এবং সংরক্ষণের অভাবে খুলনার পাইকগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের গাছ এখন বিরল হয়ে পড়েছে।

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে রাস্তার ধারে কিংবা গ্রামের বাড়ির আঙিনায় থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লালচে-কালো আমঝুম ফল যেন প্রকৃতির নিজস্ব রঙের উৎসব। একসময় শিশু-কিশোরদের প্রিয় এই বুনো ফল এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। পাইকগাছা পৌরসভা এলাকা, হরিঢালী, গদাইপুর নতুন বাজারসহ উপজেলার কয়েকটি স্থানে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে এ গাছের দেখা মিললেও সংখ্যায় তা খুবই কম।

আমঝুম ফলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর আকর্ষণীয় রঙের পরিবর্তন। কাঁচা অবস্থায় ফলটি গাঢ় সবুজ থাকে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে গোলাপি-লাল কিংবা হলুদ-কমলা রঙ ধারণ করে এবং সম্পূর্ণ পেকে গেলে লালচে-কালো বর্ণ ধারণ করে। এই বৈচিত্র্যময় রঙের কারণেই ফলটি সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

স্বাদের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। আধাপাকা অবস্থায় কিছুটা কষভাব থাকায় স্থানীয়ভাবে অনেকে একে ‘কষটি ফল’ নামেও চেনে। তবে পুরোপুরি পেকে গেলে ফলটি মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে ওঠে। পাকা ফলের প্রতি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে গাছ ভরে তোলে।

উদ্ভিদবিদদের তথ্য অনুযায়ী, আমঝুমের বৈজ্ঞানিক নাম Lepisanthes rubiginosa। এটি স্যাপিনডেসি (Sapindaceae) পরিবারের একটি চিরসবুজ বৃক্ষ। গাছটি প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর পাতা দেখতে অনেকটা আম পাতার মতো হলেও তুলনামূলকভাবে নরম ও খসখসে।

অঞ্চলভেদে এ ফলের নামেও রয়েছে বৈচিত্র্য। খুলনা অঞ্চলে এটি আমঝুম, নিনজিল কিংবা কাউয়াঠুটি নামে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাগলবড়ই, ছেরাবেরা, ছাগলনাদি, টাটই, খেজুরজাম ও ভূতিজাম নামেও পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি ‘রাখালফল’ নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমঝুম শুধু সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। লোকজ চিকিৎসায় মুখ ও জিহ্বার ঘা নিরাময়, রক্তশূন্যতা দূরীকরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ফলের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।

কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ প্রজাতির ফলের সন্ধান পাওয়া গেলেও এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ফল বর্তমানে অপ্রচলিত বা স্বল্পপরিচিত। কাউফল, নোয়াল, উড়িআম, লুকলুকি ও বৈচির মতো আমঝুমও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একসময় খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝোপঝাড় ও বসতভিটার পাশে সহজেই এ গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে তা খুবই বিরল।

পাইকগাছা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, বন-জঙ্গল ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে আমঝুমের মতো অনেক দেশীয় ও ঔষধিগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে। অথচ এসব দেশীয় প্রজাতি জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দাবি, দেশীয় ফল ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ফলের পরিচিতি বাড়ানো এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় প্রকৃতির এই রঙিন উপহার ‘আমঝুম’ একসময় শুধু স্মৃতির পাতায়ই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews