
ডেস্ক:: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার। পারস্পরিক বিশ্বাস, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের শক্তিশালী সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
শ্রমবাজার সংস্কার ও কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় দুই দেশ যেসব বিষয়ে একমত হয়, তার মধ্যে রয়েছে-
স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা
মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল চক্রের ভূমিকা কমানো
অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ
মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বাংলাদেশিদের মানবিক বিবেচনায় দ্রুত প্রত্যাবর্তন
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া Free Trade Agreement (FTA) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
দুই দেশের আলোচনায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে, যার মধ্যে রয়েছে-
ICT ও Digital Economy
Semiconductor শিল্প
জ্বালানি ও অবকাঠামো
Halal শিল্প ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনে গঠিত সরকার দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
তিনি সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন—
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
Foreign Direct Investment (FDI) বৃদ্ধি
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা
আঞ্চলিক ইস্যু ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
Rohingya সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এছাড়া ASEAN-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আগ্রহ এবং RCEP-এ যোগদানের বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পারিবারিক ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে এবং বেগম খালেদা জিয়া 1993 সালে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন বলে তিনি স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, এই সফর সেই ধারাবাহিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
সফরের শেষ পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক Memorandum of Understanding (MoU) স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।