
ডেস্ক:: যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে বহনকারী ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নভোএয়ারের ‘ভিকিউ-৯৩৫’ ফ্লাইটটি কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। তবে আকাশে ওড়ার ১৫ মিনিট পরও বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার (চাকা) ওপরে না ওঠায় পাইলট দ্রুত ঢাকায় জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারে যোগাযোগ করেন।
জরুরি অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর, পাইলট আকাশে উড়োজাহাজের ওজন কমাতে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে চক্কর দিয়ে জ্বালানি (ফুয়েল) খরচ করেন। এই সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি অবতরণের সব ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি নিরাপদে রানওয়েতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ওই ফ্লাইটের যাত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, উড্ডয়নের প্রায় ১০-১৫ মিনিট পরই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠছিল না। ক্যাপ্টেন বারবার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় বিমানটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। আকাশে প্রায় ৪৫ মিনিট থাকার পর আমরা নিরাপদে অবতরণ করি। তবে এ সময় বিমানের ভেতরে বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে শিশুদের কান্নাকাটি এবং যাত্রীদের উদ্বেগ পরিস্থিতিকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
এই ঘটনার পর পুরোনো উড়োজাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা আরও কঠোর করার তাগিদ দেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যে উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে, সেগুলোর ফিটনেস কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
জরুরি অবতরণের বিষয়ে নভোএয়ারের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা জানান, উড্ডয়নের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরে আসে। প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।