
নিজস্ব প্রতিনিধি:: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের মধ্যে খুলনা অন্যতম। অতিবৃষ্টি, তাপদাহ, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্র উপকূলীয় এবং সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষ সর্বশান্ত হয়ে শহরমুখী হচ্ছে। বনায়ন বা বৃক্ষরোপণ করা ছাড়া এর থেকে বের হওয়ার অন্য কোন উপায় নেই।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার বেলা ১১টায় নগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। পরিবেশ সুরক্ষা ও নগর সবুজায়নের লক্ষ্যে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নাগরিক ফোরাম-খুলনা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
নাগরিক ফোরামকে খুলনার একটি জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে কেসিসি প্রশাসক আরো বলেন, নাগরিক সেবার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সবুজে সাজাই বাংলাদেশ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার প্রতি বছর দেশব্যাপী ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এ কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে নিজ নিজ বসতবাড়ির চারপাশ সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান এবং ভবিষ্যতেও নাগরিক ফোরামের সকল কাজে সিটি কর্পোরেশন পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
নাগরিক ফোরাম-খুলনার কো-চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহের-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে কেসিসি’র এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সঞ্জিতা রাণী, মো: মঈন উদ্দিন, সাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন নাগরিক ফোরাম-খুলনার মহাসচিব ইকবাল হাসান তুহিন।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক আজ ১৬ থেকে ৩১নং ওয়ার্ড এলাকায় রোপণের লক্ষ্যে নাগরিক ফোরামের ওয়ার্ড কমিটির মধ্যে ৫’শ গাছের চারা হাস্তান্তর করেন এবং জাতিসংঘ শিশু পার্কে ১টি গাছের চারা রোপণ করেন। শীঘ্রই ১ থেকে ১৫নং ওয়ার্ড এলাকায় রোপণের জন্য ৫’শ গাছের চারা বিতরণ করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়।
এর আগে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা ও মাধ্যডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মধ্যডাঙ্গা মেইন রোড ও বকুলতলা মোড়ের পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মো: অহিদুজ্জামান খান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আখতার সহ কেসিসি’র সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কঞ্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর ও সুপারভাইজার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।