
মোঃ জাহিদুল ইসলাম:: খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজারের যতীন কাশেম সড়কের দু’ধারে জেলা পরিষদের আওতাধীন ৭৫টি দোকান ঘর উচ্ছেদের গোপন তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে
চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, এসব দোকানকে কেন্দ্র করেই তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। যদি হঠাৎ করে দোকান ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অন্তত দুই থেকে তিন হাজার পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে বহু মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হতে পারে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে সরকারি বিধি অনুসরণ করে খুলনা জেলা পরিষদের কাছ থেকে বৈধভাবে দোকান বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন বর্তমান ব্যবসায়ীরা। তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে খাজনা আদায় বন্ধ ছিল।
পরে গত ২২ জুন চুকনগর বাজার জেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ফরহাদ হোসেন বাবুর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একযোগে খুলনা জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল হাসান বাপ্পির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খাজনা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেন। এর পর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত একটি পত্র জারি করা হয় এবং সেই অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা বকেয়াসহ খাজনা পরিশোধ করে সরকারি রশিদ সংগ্রহ করেন।
এ ব্যাপারে চুকনগর বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, কারা বা কোন মহল ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে তা তার জানা নেই। তবে তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।
তবে সরেজমিনে গেলে একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই ৭৫টি দোকান উচ্ছেদ করে নতুনভাবে বরাদ্দ বা বিক্রির আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আব্দুল আহাদ, জিএম নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবলু, শহিদুল ইসলাম, মোঃ আখতার হোসেন গাজী, আব্দুল ওয়াদুদ, বিধান তরফদার, অসীম রাহা, অসীম কুমার দে, দেলোয়ার হোসেন লালটু, শাকিল আহমেদ, ওয়াসেক সর্দার, বিষ্ণুপদ, প্রবীর ভদ্র, সুমন হালদার, তাপস, রবিনাথ সহ অন্যান্য দোকানদাররা জানিয়েছেন তাদের কাছ থেকে জেলা পরিষদের পক্ষে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক কোনো অর্থ আদায় করেনি তারা নিজেরাই স্ব প্রণোদিত হয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সরকারি খাজনা চালুর ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদ বরাবর আবেদন জানালে জেলা পরিষদের রশিদের মাধ্যমে সরকারিভাবে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন যে টাকার জমা রশিদ দোকানদারদের কাছে রয়েছে। অন্যদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবত সরকারি খাজনা না দিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে পরবর্তীতে বেশিরভাগ দোকানদার তারা তাদের বরাদ্দ নেওয়া দোকানের বন্ধ থাকা সরকারি খাজনা পুনরায় জমাদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় হাতেগোনা ওই কয়েকজন ব্যবসায়ীর স্বার্থ ক্ষুণ্য হওয়ায় তারা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
এদিকে বছরের পর বছর বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা দোকানিরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ব্যবসায়ীদের একটাই দাবি, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হোক। এতে একদিকে যেমন হাজারো পরিবারের জীবিকা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জনমানুষের আস্থাও অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে মনে করছেন চুকনগরের সাধারণ মানুষেরা। অন্যদিকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তকর তথ্য ও ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় এ ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরে জেলা পরিষদের আওতাধীন চুকনগর বাজারের ওই সমস্ত দোকানদারদের প্রতি কোন উচ্ছেদ অভিযান বা অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন সরকারি খাজনা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের নির্দিষ্ট খাজনা ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। তবে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর খাজনা দীর্ঘদিন অনাদায়ী থাকায় জেলা পরিষদ থেকে ৬ লাখ টাকা পরিষদের নোটিশ দিলে তারা সেটি পরিশোধ করেছেন।
অন্যদিকে কোন একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেতে বিষয়টির সুরাহা চেয়ে চুকনগর বাজার জেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ফাহাদ হোসেন বাবু স্বাক্ষরিত আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ীরা।