
বিশ্ব রাজনীতিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যা ও অপহরণের মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপকে বিশ্বব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে হত্যা কিংবা আরেক রাষ্ট্রের প্রধানকে তুলে নিয়ে কারাবন্দি করার ঘটনা আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সোমবার আইএসটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন অনুষ্ঠান তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা একটা কঠিন সময়ে বাস করছি। এ সময়টা খুবই অস্থির। বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ নৈতিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধানকে তুলে নিয়ে গিয়ে কারাবন্দি করা হচ্ছে এ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি।”
তিনি আরও বলেন, তাদের প্রজন্ম গণতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে বেড়ে উঠেছে। “আমরা মানবতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই মূল্যবোধগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে,”মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৭ থেকে ১৮ বছরে ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও মান দুটোই নষ্ট হয়েছে।”
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারাও প্রফেসর ড. শাহিদা রফিকের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী শিক্ষাবিদ ও সংগঠক, যিনি শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন। বেসরকারি শিক্ষা খাতে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রফেসর ড. শাহিদা রফিকের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।
Leave a Reply