
ডেস্ক:: এবারের ঈদযাত্রায় দেশের বাস-মিনিবাস ও সিটি সার্ভিসে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত ২০ বছরে যা হয়নি, এবার সেই রেকর্ডও ভঙ্গ হওয়ার পথে।
সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, সরকারি ঘোষণা থাকলেও বাস-মিনিবাস মালিকরা চালক ও সহকারী দিয়ে যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটিবাসেও বুধবার থেকে এ নৈরাজ্যের শুরু হয়েছে। নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এবার ঈদে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপের জন্য যাত্রী যাতায়াত হতে পারে। সিটি সার্ভিসে আরও প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপের যাত্রী চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মাসের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত যাত্রী চলাচল, টিকিট ব্যবস্থা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে সমিতি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
অতিরিক্ত ভাড়ার উদাহরণও উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে পাবনা বাসের নিয়মিত ভাড়া ৫৫০–৬০০ টাকা হলেও ঈদে ১,২০০ টাকা; ঢাকা–রংপুর ৫০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা; ঢাকা–নোয়াখালী ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা; ঢাকা–রামগঞ্জ ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা; চট্টগ্রাম–ভোলা ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেছে, ৫২ আসনের লোকাল বাসেও ৪০ আসনের বাসের ভাড়া হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সিএনজিচালিত এবং ডিজেলচালিত বাসের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের ওপর সমান হারে নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে। কিছু নামী কোম্পানির বাসে নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট না থাকায় যাত্রীদের দূরবর্তী গন্তব্যে টিকিট কাটতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “পরিবহন মালিকরা ঈদকালকে সুযোগ করে নেন, যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। চালক-সহকারীদের বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস নিয়মিত পরিশোধ না করে মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফা লুফে নিচ্ছেন।”
সমিতির হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দুরপাল্লার বাস-মিনিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপের জন্য গড়ে ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। এর ফলে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হবে। সিটি সার্ভিসে ৬০ লাখ ট্রিপে ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে, যা প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ শুধু বাস-মিনিবাসে এবারের ঈদে মোট প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হবে।
সমিতি চরমভাবে দাবি করেছে, ডিজিটাল লেনদেনে ভাড়া আদায় চালু করা, নগদ লেনদেন বন্ধ করা, মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি বৃদ্ধি ও আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া এই নৈরাজ্য রোধ করা সম্ভব নয়।
Leave a Reply