
নিজস্ব প্রতিনিধি:: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। সে কারণে প্রতিটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা দরকার।
কেসিসি প্রশাসক মঙ্গলবার সকালে নগরীর ১৬নং ওয়ার্ড কার্যালয় অডিটরিয়ামে আয়োজিত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে পুষ্টি সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। কেসিসি’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘‘লাইভলীহুড সাপোর্ট ফর আরবান পুওর কমিউনিটিস ইন বাংলাদেশ (সিআইডিসিএ) প্রকল্পের আওতায় এ পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৬ টি (১, ২, ৩, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৮, ২০ ও ২৫) ওয়ার্ডের ১৮টি সিডিসিতে পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা ও ব্যবসা সহায়তাসহ দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা, কিশোরীদের হাইজিন কিডস, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং সোলার লাইট স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য এলাকা নির্বাচন এবং কমিউনিটির সুবিধাভোগীদের তালিকা অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৮’শ ৩৪ জন সুবিধাভোগীকে পুষ্টি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
একইসাথে ২’শ ১০ জন কিশোরীকে হাইজিন কিডস ও ৮’শ ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আওতায় ৪৪ জন বেকার মেয়েদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং বিধবা/স্বামী পরিত্যক্ত ৫৩ জন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও অন্ধকারের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এরকম এলাকায় সোলার লাইট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক আরো বলেন, সুবিধাবঞ্চিত নারীদের বিশেষ মার্যাদা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন। ইতোমধ্যে মহানগরীর ১টি ওয়ার্ড এলাকায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে স্বচ্ছতার সাথে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। ফলে কিছুটা হলেও নারীদের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেসিসি’র ১৬ নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও চীফ প্লানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান। কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, সমাজসেবক আসাদুজ্জামান মুরাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে পুষ্টি সামগ্রী বিতরণ করেন। এ উদ্যোগ নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে কেসিসি প্রশাসক কেসিসি’র রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডের বর্তমান অবস্থা এবং সেখানে নির্মাণাধীন ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
Leave a Reply