1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে সকল ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারের অস্থিরতায়ও অটল তারেক রহমানের জনবান্ধব সরকার বেনাপোল বন্দরে সিন্থেটিক কাপড় ঘোষণায় বিপুল-পরিমাণ শাড়ি-থ্রিপিস আমদানির অভিযোগ পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনক চুরি, সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম উধাও কেসিসি প্রশাসকের সাথে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নবনির্বাচিত পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত নারায়ণগঞ্জে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭৩০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ পানি সম্পদ রক্ষায় পাইকগাছায় সমন্বিত উদ্যোগ; কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের সিংহাসনে মোস্তাফিজ লাল-সবুজের বিজয়োল্লাস, ছাদখোলা বাসে সাফজয়ী যুবাদের রাজকীয় সংবর্ধনা

বিশ্ববাজারের অস্থিরতায়ও অটল তারেক রহমানের জনবান্ধব সরকার

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের প্রমত্ত যুদ্ধের দামামা যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, তখন বাংলাদেশ এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা অপশাসন ও লুটপাটের ফলে ভঙ্গুর হয়ে পড়া অর্থনীতি নিয়ে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তথা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সাধারণ মানুষের কাঁধে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হু-হু করে বাড়লেও এবং প্রতিবেশী দেশগুলো দফায় দফায় দাম বাড়ালেও বাংলাদেশে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রেখেছে সরকার। সাধারণ জনগণ এবং বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃঢ়তা আর তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া শূন্য রাজকোষ আর ঋণের পাহাড় মাথায় নিয়ে তারেক রহমানের সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে মেগা প্রকল্পগুলো ছিল দুর্নীতির আখড়া। ভঙ্গুর এই অর্থনীতিকে টেনে তোলা যেখানে যেকোনো সরকারের জন্য হিমশিম খাওয়ার মতো বিষয়, সেখানে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া ছিল এক দুঃসাহসী চ্যালেঞ্জ।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারে হাত দেয়। বিশেষ করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সচল করার দিকে নজর দেন তারেক রহমান। এই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টার মধ্যেই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট প্রতিকূল হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। অনেক উন্নত দেশও তাদের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছিল, আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে? কিন্তু তারেক রহমানের সরকার প্রথম থেকেই ঘোষণা করেছিল, ‘জনগণের ভোগান্তি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেব না।’ এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হিসেবেই তেলের দাম না বাড়িয়ে সরকার লোকসান ভর্তুকি দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম না বাড়ানো কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক হিসাব। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যা সরাসরি কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

তারেক রহমান সরকারে আসার আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, তার মূল লক্ষ্য হবে ‘উৎপাদনমুখী অর্থনীতি’। এই উৎপাদন বজায় রাখতে হলে ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য। সরকার সিস্টেম লস কমিয়ে এবং জ্বালানি আমদানিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সাশ্রয় করা অর্থ দিয়ে তেলের দাম সমন্বয় করছে। এটিই মূলত জনগণের কাছে ‘তারেক রহমানের কারিশমা’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লাগার পর এবার তেলের দাম ২০০ টাকা পার হবে। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার আসায় আমরা স্বস্তিতে আছি। তিনি দেশের মানুষের কষ্ট বোঝেন।

একই সুর শোনা গেল উত্তরবঙ্গের কৃষকদের কণ্ঠেও। সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম না বাড়ায় কৃষকরা এবার বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছেন। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, দেশের সম্পদ যদি লুটপাট না হয় এবং যোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক সংকটও মোকাবিলা করা সম্ভব।

একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং বিগত সরকারের দোসররা বারবার গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেছে যে, তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের কোনো উপায় নেই। তারা চেয়েছিল জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে। কিন্তু তারেক রহমান সরাসরি মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন বিলাসদ্রব্যে কর বাড়ানো হলেও জ্বালানি ও খাদ্যে কোনো চাপ না আসে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ‘সার্বভৌম অর্থনীতি’ গড়ার পথে। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং রিনিউয়েবল এনার্জিতে গুরুত্ব দেওয়ায় ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকটে বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়া কমবে।

যদিও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত, তবুও তারেক রহমানের সরকার গত কয়েক মাসে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তাতে জনগণের আস্থা কয়েকগুণ বেড়েছে। সংবাদকর্মী ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার নিজের স্বচ্ছতা প্রমাণ করেছে। কোনো কিছু গোপন না করে সংকট সরাসরি মোকাবিলা করার এই মানসিকতাই তারেক রহমানকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি আর বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে তারেক রহমানের সরকার প্রমাণ করেছে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। জনগণ আজ রাজপথে নয়, বরং তাদের পকেটে সরকারের সুফল অনুভব করছে।

তারেক রহমানের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য অর্থনৈতিক বিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই একটি সমৃদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট