
নিজস্ব প্রতিনিধি:: ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শনিবার সার্কিট হাউজের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বৃক্ষমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশরক্ষায়সকলের বৃক্ষরোপণকরাঅপরিহার্য। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে হবে।সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থা মিলে গত ২ জুলাই পর্যন্ত এক কোটি ৭০ লাখের মতো গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাস্তার দুই পাশে গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বিল্পব শুরু করেছিলেন। তারই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বিল্পব শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার ক্ষতির কারণ হলো পলিথিন। পলিথিন বন্ধে সকলের সচেতন হতে হবে। আমাদের পরিবেশটি কিন্তু অনেকটা বিপন্ন। এখন কাজ হলো বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশটাকে উন্নত করা। বর্তমান সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। দুই কোটির মতো কেওড়া গাছ লাগানো হবে। গাছ হলো আমাদের পরম বন্ধু। একদিকে অর্থকরী ফসল অন্য দিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রতিমন্ত্রী সকল খালি জায়গায় ফলজ, বনজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনসহ সবধরণের গাছ লাগাতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু,পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, রেঞ্জ ডিআইজি মো: রেজাউল হক, বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ও নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মো: বদরুল আলম রয়েল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান। জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন।
বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষ্যে এর আগে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণ অংশ নেন।
মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের স্টলসহ মেলায় মোট ৬২টি স্টল রয়েছে।