
নিজস্ব প্রতিনিধি:: ক্যান্সার চিকিৎসার সর্বাধুনিক ব্যবস্থাপনা বলতে গেলে আমাদের দেশে নাই। সে কারণে এ রোগের চিকিৎসা অনেকটাই দেশের বাইরের হাসপাতালগুলির ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া পদ্মার এপারে ক্যান্সার চিকিৎসার ভালো কোন ব্যবস্থা নাই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ক্যান্সার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শীঘ্রই শেষ হবে। কিন্তু ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট নয়। তিনি খুলনায় ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য চায়না থেকে আগত কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। প্রশাসক চায়নার হাসপাতাল থেকে অনলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভাষা সমস্যা দূরীকরণ এবং ভিসা সহজীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রবিবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। জনসাধারণের মধ্যে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরার ল্েয এসইওকে হেলথকেয়ার এ সেমিনারের আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক চিকিৎসা জ্ঞানকে স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এই সেমিনার আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগীদের তথ্যসেবা, চিকিৎসা সহায়তা, ভিডিও কনসালটেশন, চিকিৎসা ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় সহায়তাসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতের দতা উন্নয়ন, চিকিৎসক ও হাসপাতালসমূহের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন চীনের মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ফোসান ফোচুন চ্যানছেং হাসাপাতালের ডেপুটি ডাইরেক্টর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর হান লিয়াংফু এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মিস লিলি উই। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এসইওকে হেলথকেয়ার-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এম. মাসুমুজ্জামান।
সেমিনারে ফোসান ফোসুন চ্যানছেং হাসপাতালের প্রতিনিধিরা হাসপাতালটির আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সুবিধা, ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈশ্বিক রোগীসেবার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সময়মতো রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠা, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং হিমায়িত ও তৈলাক্ত খাবারে নিরুৎসাহিত করা, তামাকজাত ও এ্যালকোহল বর্জনের মাধ্যমে ক্যান্সারজনিত ঝুঁকি ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কমপক্ষে বছরে একবার শারীরিক চেকআপ করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কেসিসি’র সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মতকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান, এঙ্িিকউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মো: ওয়াহিদুজ্জামান খান, ভেটেরিনারী সার্জন ডা. পেরু গোপাল বিশ্বাস, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান, সিনিয়র লাইন্সেস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিম সহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কেসিসি’র শাখা প্রধানগণ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply