
ডেস্ক:: লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ফেরা এসব বাংলাদেশি লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা এবং রাজধানী ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একযোগে কাজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হন। অনেকেই অপহরণ, নির্যাতন এবং মানবিক সংকটের শিকার হওয়ার পর বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক হন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরা। এ সময় প্রত্যাবাসিতদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সমাজের মানুষের কাছে তুলে ধরে মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন দালালচক্রের প্রলোভনে না পড়েন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর যাতায়াত ব্যয়, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রেখেছে।