
মোঃ মামুনুর রশিদ:: দাকোপে গ্রামীন সড়কে চলছে গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ভারী ট্রাক। প্রতি বছর রাস্তা গুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ন চলাচল। স্থানীয় প্রশাসন বার বার ভারী যানবাহন চলাচল বন্দের কথা বললেও অজানা কারনে বাস্তবায়ন হয়না। আর যাদের কারনে এই অবস্থা সেই গ্যাস কোম্পানীর নেই কোন ভ্রুক্ষেপ।
দাকোপ উপজেলার চালনা পৌর সদরের খলিশা এলাকায় গড়ে ওঠা বিএম গ্যাস কোম্পানী এখন উপজেলাবাসীর গলার কাটা হয়ে উঠেছে। কোম্পানীর গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টনের ভারী ট্রাক। কোম্পানী হতে পানখালী ফেরীঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার উপজেলা ও গ্রামীন সড়ক। খোঁজ নিয়ে জানা যায় কোম্পানী হতে বৌমার গাছতলা পর্যন্ত আধা কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের, গাছতলা হতে কেসির ব্রীজ পর্যন্ত ১.৬৬ কিলোমিটার এলজিইডির উপজেলা সড়ক এবং কেসি ব্রীজ হতে পানখালী ফেরীঘাট পর্যন্ত ৩.৪০ কিলোমিটার এলজিইডির গ্রামীন সড়ক। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সুত্র জানায় উপজেলা সড়কে সর্বোচ্চ ২০ টন এবং গ্রামীন সড়কে সর্বোচ্চ ১০ টন ওজনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। কিন্তু বছরের পর বছর বিএম গ্যাস কোম্পানী ওই রাস্তা ব্যবহার করে বেআইনীভাবে ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ভারী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনে তাদের মালামাল পরিবহন করছে। ফলে অতিরিক্ত লোডের কারনে প্রতি বছর রাস্তা মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিশেষ করে বর্যা মৌসুম আসলেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে পানি জমে গর্ত সৃষ্টি হয়ে খানা বা পুকুরে পরিনত হয়। ফলে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়ে, ঘটে নানা রকম দূর্ঘটনা। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারন পথ চারীদের চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং চালনা পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গাজী সরোয়ার হোসেন বলেন, উন্নয়নের নামে পৌরসভার অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ন এই সড়কটি ভারী ট্রাক ব্যবহার করে যেভাবে ক্ষতিসাধন করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত করা হচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায়না। কোম্পানীর উচিত বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টি করা। ২ নং ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আঃ বারিক শেখ বলেন, কোম্পানী করার সময় তাদের অঙ্গিকার ছিল নিজস্ব অর্থায়নে উপযুক্ত রাস্তা তৈরী করে পরিবহন করবে। কিন্তু তারা সে অঙ্গিকার রাখেনি। আমরা পৌরসভায় একাধীকবার গাড়ী বন্দের জন্য রেজুলেশন অনুমোদন করেছি। কিন্তু অজানা কারনে বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন এখন তারা খালের দক্ষিন পাশের নতুন রাস্তাও ব্যবহার করছে। জনস্বার্থে আমরা এই ভারী গাড়ী চলাচল বন্দ করার দাবী জানাই। এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইমরান আহমেদ খান বলেন, রাস্তাটি ভারী যানবাহন উপযুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর ক্ষতিপূরন দিয়ে সংস্কার করা উচিত। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার বলেন আমাদের ওই রাস্তার লোড ক্যাপাসিটির বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে ডিজাইন বিভাগের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পৌরসভার জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তার এমন ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক ও দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, আমরা সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা হয় রাস্তা উপযোগী ছোট গাড়ী ব্যবহার করবে, অন্যথায় নদী পথ বা বিকল্প ব্যবস্থায় সিলিন্ডার পরিবহন করবে এমন নির্দেশনা তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানীর যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। কোম্পানীর ম্যানেজার আরমানুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা চালনা পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন এবং দাকোপ থানা যে পরামর্শ দেয় সে গুলো মেনে পরিবহন করে আসছি।