বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
জুলাই নেমেছে ভারতজুড়ে, মোদির কি বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে? বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-মির্জা ফখরুল এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে-ইসি সচিব প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা পাইকগাছায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে খুলনা মহানগর যুবদলের বৃক্ষরোপণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের মধ্যে খুলনা অন্যতম-সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমপি গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত পাইকগাছায় রান্না করা গরুর মাংসের রং লাল থেকে সবুজ: এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য যশোরের নীলগঞ্জে দুটি স্বর্ণেরবারসহ পাচারকারী আটক

জুলাই নেমেছে ভারতজুড়ে, মোদির কি বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে?

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজারো তরুণ-তরুণী রাজধানী দিল্লির রাজপথে নেমেছেন। ব্যঙ্গাত্মক একটি অনলাইন উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন দেশের অন্যতম আলোচিত জেন-জি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দীপক ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে মজা করে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরে সদস্য হওয়ার নিবন্ধন ফরম প্রকাশ করলে অল্প সময়েই হাজারো মানুষ এতে নাম লেখান। গত ১৯ জুলাই দলটি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিলে দিল্লিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনের পর। গত ২৮ জুন তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। পুলিশ পরে তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনের নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ রাখা হয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে। একটি শুনানিতে তিনি ভুয়া সনদধারী কিছু মানুষকে ককরোচের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এরপরই আন্দোলনকারীরা এই নাম গ্রহণ করে প্রতিবাদ শুরু করেন।

আন্দোলনের মূল দাবি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করছেন তাঁরা। এ বছরের চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হলে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং এই মানসিক চাপে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।

এদিকে সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ চলো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।

এর পাশাপাশি প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত মহাসমাবেশে অংশ নিতে শত শত কৃষক এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে পাঞ্জাবের শত শত শিখ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ দিল্লিমুখী যাত্রা করেছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে কোনো সরকারি দপ্তর বা মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, যন্তর মন্তর বা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে আলোচনা হতে হবে।

এই আন্দোলন ইতিমধ্যে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশ ও নেপালের জেন-জি গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews