1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
পাইকগাছায় সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মোংলায় মাদক-দুর্নীতিবিরোধী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, থানায় জিডি মৌচাকের মধু আর সংগ্রামের জীবন-মৌয়াল বারিকের গল্প মোংলা বন্দরের দায়িত্ব নিলেন রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ২ কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু রোববার কেএমপি গোয়েন্দা শাখার অভিযানে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সহযোগী কসাই লিটন ও রিফাত আটক পৃথিবীর পরিবেশ ও জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান উপকরণ হচ্ছে বৃক্ষ-নজরুল ইসলাম মঞ্জু রামগতিতে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র গুলি ও নগদ টাকাসহ তিনজন আটক

মৌচাকের মধু আর সংগ্রামের জীবন-মৌয়াল বারিকের গল্প

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা):: খাঁটি মধুর সন্ধানে ক্রেতাদের ভোগান্তির শেষ নেই। বাজারে ভেজাল মধুর ছড়াছড়ির মধ্যে পাইকগাছার মৌয়াল আব্দুল বারিক স্থানীয় গাছপালা ও বসতবাড়ির প্রাকৃতিক মৌচাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। ফলে তার মধুর প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। এলাকায় তিনি ‘মধু বারিক’ নামেই অধিক পরিচিত।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মটবাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারিক প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রাকৃতিক মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন গ্রামে কোথাও মৌচাকের সন্ধান মিললেই তাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি দক্ষতার সঙ্গে চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে চাকসহ মধু বিক্রি করেন।

বারিক জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বড় বা দেশি মৌমাছির চাক বেশি দেখা যায়। কয়েক বছর তিনি সুন্দরবনের মৌয়ালদের সঙ্গে মধু আহরণের কাজও করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে পেশাদারভাবে মধু সংগ্রহ করছেন।

মধু সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে শুকনো খড় ও পাতা দিয়ে মশালের মতো একটি ধোঁয়ার উৎস তৈরি করা হয়, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘বোলেন’ বা ‘বুন্দা’ বলা হয়। এর ধোঁয়ায় মৌমাছিগুলো সাময়িকভাবে চাক ছেড়ে দূরে সরে যায়। এরপর চাকের কিছু অংশ অক্ষত রেখে দা বা কাঁচির সাহায্যে চাক কেটে নেওয়া হয়। পরে চাক থেকে হাতে চিপে মধু আলাদা করা হয়। চাকের একটি অংশ রেখে দেওয়ায় মৌমাছিগুলো আবার নতুন করে চাক তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও জানান, সাধারণত চাক কেটে পাওয়া মধু ও চাকের মালিকের মধ্যে সমান ভাগাভাগি করা হয়। সংগৃহীত মধু প্রতি কেজি এক হাজার থেকে বারোশ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি।

তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মৌচাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানান এই মৌয়াল। তার ভাষ্য, অতিরিক্ত গরমে অনেক চাক নষ্ট হয়ে পড়ে যায়। আবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল দ্রুত শুকিয়ে ঝরে যায়, ফলে মৌমাছিরা কম মধু সংগ্রহ করতে পারে।

বারিক বলেন, ফাল্গুন থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত ফুলের আধিক্যের কারণে চাকে সবচেয়ে বেশি মধু পাওয়া যায়। বছরের বাকি সময় মধুর পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ায় সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।

প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ ও বিক্রির কারণে আব্দুল বারিক এখন পাইকগাছা অঞ্চলের একজন পরিচিত মুখ। কোনো ধরনের কৃত্রিম উপাদান বা ভেজাল ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে চাক কেটে মধু বিক্রি করায় স্থানীয়দের কাছে তার মধু খাঁটি ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট