সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
সোমবারই পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার মালয়েশিয়ার কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে চেষ্টা চালাবো-প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন: নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সৎ বোন ও মাকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ কবিতা গানে শ্রদ্ধা ভালবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি রুদ্রকে স্মরণ পাথরঘাটায় কোস্টগার্ডের আয়োজনে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা নৌবাহিনীতে কমিশন পেলেন ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ও চরম আবহাওয়ার ধাক্কা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ

কবিতা গানে শ্রদ্ধা ভালবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি রুদ্রকে স্মরণ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মোংলা প্রতিনিধি:: কবিতা গানে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক একুশে পদকপ্রাপ্ত করি রুদ্রের ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ৯টায় মোংলার মিঠাখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সংসদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা সহকারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রুদ্রের বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সকাল ১০টায় রুদ্রের বাড়িতে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাংবাদিক রুদ্র অনুজ সুমেল সারাফাত। রুদ্র স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টামন্ডলীর সভাপতি ও মিঠাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরো আলোচনা করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ, চালনা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন, রামপাল সরকারি কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম, কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা নাজমুল হক প্রমুখ । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান টিটো। আলোচনা শেষে রুদ্রের গান পরিবেশন করেন রুদ্রের গড়া সংগঠন অন্তর বাজাও।
সভায় বক্তারা বলেন, রুদ্র ছিলেন তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক। সমাজের সকল বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছেন। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার। বুদ্ধিবৃত্তিক আপোষকামিতায় দেশ যখন আকন্ঠ নিমজ্জিত, সত্য যখন নির্বাসনে এই রকম অস্থির সময়ে রুদ্রকে আমাদের নিজেদের জন্যে, দেশের জন্যে খুব প্রয়োজন ছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন রুদ্র তার কবিতা, গান নিয়ে বেঁচে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবন-সীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ-‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’(১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭) ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’(১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্যও রচনা করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু গল্প লিখেছেন।
তার রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’- গানটি দুই বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয়। ১৯৮৭ সালে তসলিমা নাসরীনের সাথে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এ গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। রুদ্রের মৃত্যুর ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে তিনি একুশে পদক (মরণোত্তর) পান।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews