
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর ঘাটশ্রমিক দীপঙ্কর মণ্ডল (৩৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বোরহানপুর গ্রামের ভরভোরিয়া স্লুইস গেট সংলগ্ন নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত দীপঙ্কর মণ্ডল রাড়ুলী পশ্চিমপাড়া গ্রামের দুলাল মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ করতেন।
জানা যায়, রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রাড়ুলী পশ্চিমপাড়া স্টিমার ঘাট এলাকায় কপোতাক্ষ নদীতে হাত-পা ধোয়ার সময় অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান দীপঙ্কর। সে সময় নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় মুহূর্তেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান চালালেও রাতের অন্ধকার ও উত্তাল নদীর কারণে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল কপোতাক্ষ নদীর বিভিন্ন স্থানে ট্রলার নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে বোরহানপুর এলাকার ভরভোরিয়া স্লুইস গেটের কাছে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে ডুবুরি দল মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা সেটিকে দীপঙ্কর মণ্ডলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রোববারও তিনি কপিলমুনি বাজারে দিনভর শ্রমিকের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি স্টিমার ঘাটে পৌঁছে শরীর ও হাত-পা পরিষ্কার করতে নদীর পাড়ে নামলে দুর্ঘটনার শিকার হন।
দীপঙ্করের মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাড়ুলী পশ্চিমপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্বজনরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।