
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি:: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হারে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পাশের হার ৮৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। উপজেলার ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসাসহ মোট ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিঘলিয়ায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের গড় পাশের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
দিঘলিয়ায় মোট ৬৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
এছাড়া সেনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, হাজী ছায়েমউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ জন, ফাতেমা মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, সুগন্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ জন, দিঘলিয়া এম এ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, এ্যাপেক্স মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২ জন, গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন, স্টার জুট মিলস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং নন্দন প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফলের দিক থেকে সেনহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পাশের হার ৮৬ দশমিক ২১ শতাংশ, সুগন্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, এ্যাপেক্স মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮২ দশমিক ১৪ শতাংশ, হাজী ছায়েমউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং স্টার জুট মিলস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার তুলনামূলক কম। গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০ দশমিক ৪০ শতাংশ, নন্দন প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং আড়ুয়া উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে ৩২ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
এদিকে দাখিল ও ভোকেশনাল শাখাতেও ভালো ফলাফল হয়েছে। এসএসসি-২০২৬ দাখিল পরীক্ষায় হাছেনীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৬৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের গড় ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশের চেয়ে বেশি। এ শাখা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভোকেশনাল শাখায় ১১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৮০ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের গড় ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশের তুলনায় বেশি। এ শাখা থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবিষয়ে সেনহাটি সরঃ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা সর্বদা শিক্ষার্থী বান্ধব পড়াশোনায় বিশ্বাসী।নশিক্ষক হিসাবে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন বিকাশে পাঠদান পরিচালনা করা আমাদের কর্তব্য। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরেও আমাদের বিদ্যালয় প্রথম হয়েছিলো। শিক্ষার্থীদের সফলতায় যেমন তার পরিবার খুশি হয় এবং তার পরিবারের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় ঠিক তেমনিভাবে আমরাও খুশি হই আমাদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও মর্যাদাবৃদ্ধি পায়।
সার্বিক ফলাফলে দিঘলিয়ার স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।