
এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা:: প্রচণ্ড গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় বেড়েছে কচি তালের শাঁসের চাহিদা। জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জমে উঠেছে কচি তাল বিক্রির মৌসুমি বেচাকেনা। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে পাইকগাছা থেকে ২ থেকে ৩ ট্রাক কচি তাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে কচি তালের শাঁসের জুড়ি নেই। জেলির মতো নরম ও সুস্বাদু হওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের কাছেই এটি বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি রুচি বৃদ্ধি, রক্তশূন্যতা কমানো ও লিভারের নানা সমস্যায়ও উপকারী বলে মনে করেন অনেকে।
পাইকগাছা অঞ্চলে মূলত কালো ও ধূসর-হলুদ জাতের তাল বেশি দেখা যায়। তবে চলতি মৌসুমে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তালের ফলন আশানুরূপ হয়নি বলে জানিয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আকারভেদে প্রতিটি কাঁদিতে ১০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত তাল ধরেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিটি কচি তাল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি গাছ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকায় চুক্তিতে কিনে নিচ্ছেন।
উপজেলার সোলেমানপুর গ্রামের তাল ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন ভ্যানে করে বাজারে ঘুরে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি করছি। গরম বেশি থাকায় এবার ক্রেতার চাহিদাও অনেক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন গাজী ও শফি মোড়ল জানান, বড় আকারের তালগুলো বেশি লাভের আশায় ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি আড়তে পাঠানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, পাইকগাছা থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ থেকে ৩ ট্রাক তাল ঢাকায় যাচ্ছে।
তবে ফল ব্যবসায়ী আব্দুর সাত্তার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এলাকায় দিন দিন বড় তাল গাছ কমে যাচ্ছে। তার ওপর অনাবৃষ্টির কারণে এবার ফলনও কম হয়েছে।” তিনি জানান, ক্ষেতের আইল, বাগান কিংবা অনাবাদী জমিতে অবহেলায় বেড়ে ওঠা তালগাছ মানুষের নানা উপকারে এলেও প্রতিবছর অসংখ্য গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি সূত্রে জানা যায়, তাল গাছ শুধু ফল দেয় না, বজ্রপাত প্রতিরোধ, ঝড়ের ক্ষতি কমানো ও ভূমিক্ষয় রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রতি বছর বিভিন্ন এলাকায় তালের আঁটি রোপণ করছে এবং মানুষকে তালগাছ সংরক্ষণে সচেতন করা হচ্ছে।
Leave a Reply