
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:: খুলনার পাইকগাছায় গণপিটুনিতে হাসান (৩৭) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী পশুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান স্থানীয় কালিদাশপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাসানের বসবাসের স্থানে তার স্ত্রী’র সামনে প্রসাব করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে হত্যা করেছে। তবে পশুর হাটের ইজারাদার পক্ষের দাবি, হাটের টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার গণপিটুনির শিকার হন হাসান।
চাঁদখালী পশুর হাটের আদায়কারী আজহারুল ইসলাম জানান, হাট শেষে তিনি টাকার ব্যাগ নিয়ে ইজারাদার নাজমুল হুদা মিন্টুর বাজারসংলগ্ন অফিসে যাচ্ছিলেন। হাটের একটি কর্নারে পৌঁছালে হাসান তার ওপর হামলা চালিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হাসানকে গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. নয়ন কুমার সরকার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ওই রাতেই থানার এসআই আজিজুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে হাসানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাত ও সোমবার ভোরে নিহতের পরিবারের লোকজন ইজারাদার নাজমুল হুদা মিন্টু’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কালিদাশপুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও তার ভাই ইমরানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাজমুল হুদা মিন্টু বলেন, হাসানের স্বজনরা আমার অফিস ও হ্যাচারিতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, তবে তার চিকিৎসার জন্য নসিমনে করে হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলাম।
অপরদিকে আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, সোমবার ভোরে নিহতের ভাই ইয়াসিনের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৩ জন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের ফ্রিজ, পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিসংযোগে বাধা দিতে গেলে প্রতিবেশী আসাদুল ইসলামকে মারধর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হাসানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এর আগেও তিনি দুইবার গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। ব্যবসায়ী আলহাজ খোকন গাজী দাবি করেন, হাসান এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল এবং তিনি বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করতেন।
তবে নিহতের চাচা আব্দুল গফফার ভিন্ন দাবি করে বলেন, বাজার এলাকায় বসবাসকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে কুদ্দুস ও মিন্টুর লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হাসানকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একই দাবি জানান নিহতের ভাতিজি কিশোরী মীম।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত হাসানের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে পিটিয়ে হত্যা করা আইনসিদ্ধ নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply