1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৯ ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা নেই সরকারের-স্বাস্থ্যমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার পাইকগাছায় গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু; পরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মোংলায় উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের আয়োজনে বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালন ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের অপসারণ দাবিতে বেনাপোলে মানববন্ধন ভারত থেকে ৯১ বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে আনল কোস্টগার্ড

ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন এক চরম ও বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিল মাসে অর্জিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইসরায়েল ও ইরান গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও তীব্র পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় লিপ্ত হয়েছে।

এই আকস্মিক ও ব্যাপক যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই পক্ষকেই অবিলম্বে ‘গোলাগুলি বন্ধ’ করার জন্য কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

তবে সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেই দুই পক্ষ নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় দুই দেশের প্রতি এই সংঘাত থামানোর আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মুহূর্তে দুই দেশেরই উচিত অবিলম্বে সমস্ত ধরনের আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করা।

তবে সংঘাতের তীব্রতা সত্ত্বেও আশার বাণী শুনিয়ে ট্রাম্প পরবর্তীতে দাবি করেন, ইসরায়েল এবং ইরান উভয় পক্ষই আসলে একটি স্থায়ী ও তাত্ক্ষণিক যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালে’ চূড়ান্ত শান্তি আলোচনায় বেশ দ্রুত গতিতে চলছে এবং একটি বড় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের মধ্যেই মাটিতে দুই দেশের ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন এবং বিস্ফোরণের শব্দ বিশ্ববাসীকে নতুন এক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কায় শঙ্কিত করে তুলেছে।

চলমান এই সংঘাতের সূত্রপাত ও বিস্তার অত্যন্ত দ্রুত গতির এবং বহুমুখী। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সীমান্ত বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ইরান দাবি করেছে যে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে, যা পূর্বের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির শর্তাবলিকে সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং বৈরুতের ওপর চালানো এই হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা ইসরায়েলে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে। এর পরপরই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে সিএনএন-এর প্রতিনিধি ফ্রেডরিক প্লিটজেন জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের থমথমে শব্দ শোনা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পবিত্র নগরী জেরুজালেম এবং তেল আবিবজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বা বেজে চলেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম এবং অ্যারো সিস্টেম) মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় আকাশে তীব্র আলোর ঝলকানি এবং বিকট শব্দ অনুভূত হচ্ছে।

এই সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ইরান ও ইসরায়েলের এই সরাসরি লড়াইয়ের মধ্যেই হুতিরা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েল অভিমুখে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

হুতিদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সমস্ত বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। এর ফলে লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সংঘাতটি এড়ানো সম্ভব হতো যদি ইসরায়েল মার্কিন পরামর্শ মেনে চলত। ইরানের হামলার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি ফোন করে বা বার্তার মাধ্যমে সংযত থাকার এবং ইরানি উস্কানির জবাবে কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে ইরানের সাথে চলমান মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ ও ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার আলোচনাকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়া। কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার নিজের দেশের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্পের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের ওপর সরাসরি বিমান হামলা চালায়, যার ফলশ্রুতিতে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয়।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তান ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখবে, যার বিনিময়ে আমেরিকা ইরানের অবরুদ্ধ কিছু অর্থ অবমুক্ত করার এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে তার মেয়াদের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে ইসরায়েল ও ইরানের এই সরাসরি সংঘর্ষের ফলে সেই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার এই শত্রুতা এতটাই গভীরে চলে গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক চাপ বা মধ্যস্থতা দিয়ে একে দীর্ঘ মেয়াদে থামিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই আকস্মিক যুদ্ধাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ইসরায়েল ইরানের তেল শোধনাগার বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যালটপ্রতি ৪ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও পরিবর্তনশীল। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে পর্দার আড়ালে উভয় পক্ষই দ্রুত শান্তি চুক্তি করার দিকে এগোচ্ছে এবং সাময়িকভাবে ইরানের সামরিক কমান্ডও তাদের আক্রমণ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে তারা আগামী বেশ কয়েকদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই তীব্র চাপ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার হুঁশিয়ারি মেনে নিয়ে ইসরায়েল ও ইরান কি সত্যিই গোলাগুলি থামিয়ে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে, নাকি এই সাময়িক বিরতির পর মধ্যপ্রাচ্য এক অবিনাশী ও পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আগুনে জ্বলে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট