
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত বা ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’, যা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় যেতে বাধ্য করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একযোগে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর দিকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যদিও সেন্টকম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি, তারা নিশ্চিত করেছে যে হামলার লক্ষ্য ছিল এ অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারা।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেরাই এ হামলাকে ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ, হামলার সময় ও ধরন সম্পর্কে আগে থেকে কোনো ধারণা তাদের ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনোটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।
হামলার সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস একে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করে। ট্রাম্পও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই তিনি বড় ধরনের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন।
কিন্তু সেই বক্তব্যের অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মোড়ে নিয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এ হামলা শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। আলোচনার পরিবেশ চলমান থাকলেও প্রয়োজন হলে যে ইরান আবারও শক্তি প্রয়োগে যেতে প্রস্তুত, সেই বার্তাই তেহরান দিতে চেয়েছে বলে তাদের ধারণা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, টানা ১৪ দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হওয়ার যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তা আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলেই মনে করছেন তারা।
একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং অন্যদিকে আকস্মিক সামরিক হামলা- এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতিই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আশা করছে, সেখানে ইরানের এই পদক্ষেপ নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা, নাকি উভয় পক্ষ আবারও আলোচনার পথে ফিরবে।