বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ওর আঙুলগুলো প্রজাপতির ডানার মতো ছুঁয়ে যাচ্ছিল-প্রিয়াঙ্কা চোপড়া চা-শ্রমিকদের সুরক্ষায় ২০ হাজার রেইনকোট দিচ্ছে সরকার রাজস্ব নিয়ে জনগনের বিভ্রান্তি কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ-প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীর স্ত্রীর উপর হামলার অভিযোগ, উভয়পক্ষের চার নারী আহত নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত দাকোপে জেলা যুব নারী সামাজিক এ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পূর্ণ জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত দাকোপে দূর্নীতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছার বিখ্যাত বোম্বাই লতা আমে ‘স্ক্যাব’ রোগের থাবা,দিশেহারা শত শত চাষি

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪২৮ বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা):: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু ‘বোম্বাই লতা’ আমে এবার ভয়াবহভাবে দেখা দিয়েছে ছত্রাকজনিত ‘স্ক্যাব’ বা দাদ রোগ। একসময়কার গাঢ় সবুজ ও আকর্ষণীয় এই আম এখন গাছে গাছে ধূসর-বাদামি রঙ ধারণ করায় দেখতে অনেকটা সফেদা ফলের মতো হয়ে গেছে। ফলে বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে গেছে এবং ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় শত শত আমচাষি ও ব্যবসায়ী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত বোম্বাই লতা আম দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ঢাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। বড় আকৃতির গোলাকার ও সুস্বাদু হওয়ায় এই আমের আলাদা কদর ছিল বাজারে। তবে চলতি মৌসুমে স্ক্যাব রোগের আক্রমণে সেই সুখ্যাতি এখন হুমকির মুখে।

চাষিরা জানান, রোগের কারণে আমের খোসা খসখসে ও ফেটে যাচ্ছে। বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ায় পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা এসব আম কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে অনেক বাগানে আম গাছেই পচে নষ্ট হচ্ছে।

গদাইপুর এলাকার আমচাষি মোবারক ঢালী বলেন,

প্রতি বছরের মতো এবারও নিয়মিত সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করেছি। কিন্তু রোগটি এমনভাবে ছড়িয়েছে যে প্রায় সব আমের রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে কেউ এই আম দেখতে চায় না। এখন আম বিক্রি করে শ্রমিকের খরচও উঠছে না।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এটি মূলত ‘আমের স্ক্যাব’ নামে পরিচিত একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এলসিনো ম্যাঙ্গোফেরা নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। কৃষিবিদদের মতে, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং গুটি অবস্থায় সময়মতো সঠিক ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করায় এ বছর রোগটির প্রকোপ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রোগের প্রাথমিক আক্রমণে কচি গুটি ঝরে পড়ে। আর যেসব আম বড় হয়, সেগুলোর গায়ে ধূসর বা বাদামি আবরণ পড়ে এবং খোসা ফেটে যায়। যদিও ভেতরের অংশ খাওয়ার উপযোগী থাকে, তবে বাহ্যিক মান নষ্ট হওয়ায় বাজারমূল্য একেবারে কমে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। চাষিদের প্রতি গুটি অবস্থায় নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে, ফল সংগ্রহের পর গাছ ছাঁটাই এবং পরবর্তীতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে বোম্বাই লতা আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু স্ক্যাব রোগের ব্যাপক বিস্তার এবং প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী আমের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি সহায়তা ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews