মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ওর আঙুলগুলো প্রজাপতির ডানার মতো ছুঁয়ে যাচ্ছিল-প্রিয়াঙ্কা চোপড়া চা-শ্রমিকদের সুরক্ষায় ২০ হাজার রেইনকোট দিচ্ছে সরকার রাজস্ব নিয়ে জনগনের বিভ্রান্তি কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ-প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীর স্ত্রীর উপর হামলার অভিযোগ, উভয়পক্ষের চার নারী আহত নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত দাকোপে জেলা যুব নারী সামাজিক এ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পূর্ণ জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত দাকোপে দূর্নীতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ওর আঙুলগুলো প্রজাপতির ডানার মতো ছুঁয়ে যাচ্ছিল-প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক:: মেয়ে মালতি মেরি চোপড়া জোনাসকে ঘিরে জীবনের কঠিনতম সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। সময়ের আগে জন্ম নেওয়া মেয়েকে প্রায় চার সপ্তাহ নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমবার বুকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি জনপ্রিয় উপস্থাপক জয় শেঠির পডকাস্টে অতিথি হয়ে মাতৃত্বের সেই কঠিন সময়ের কথা জানান প্রিয়াঙ্কা। সেখানে তিনি বলেন, সন্তানের জন্মের পরের কয়েক সপ্তাহ ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষায় ভরা। সেই সময়ে তাঁর ও স্বামী নিক জোনাসের একমাত্র লক্ষ্য ছিল মেয়েকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা।

মেয়েকে প্রথমবার বুকে জড়িয়ে ধরার স্মৃতি

মালতির জন্মের চার সপ্তাহ পর প্রথমবার তাকে বুকে নেওয়ার সুযোগ পান প্রিয়াঙ্কা। সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মেয়েটি এতটাই ছোট ছিল যে তার আঙুলের স্পর্শকে তাঁর মনে হয়েছিল প্রজাপতির ডানার মতো।

প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, সেই ছোট্ট আঙুল বুকের ওপর স্পর্শ করার পরই তাঁর ভেতরে এক গভীর পরিবর্তন ঘটে। মনে হয়েছিল, এই শিশুটিকে রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেতে প্রস্তুত তিনি।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের জন্মের আগে এমন অনুভূতি কখনো হয়নি। তখন মনে হতো নিজের হৃদপিণ্ড যেন শরীরের বাইরে এসে স্পন্দিত হচ্ছে।

সন্তানকে বাঁচানোই ছিল একমাত্র লক্ষ্য

মালতির জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে। জন্মের সময় তার ওজন ছিল মাত্র প্রায় ৪৫৩ গ্রাম। জন্মের পর তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

প্রিয়াঙ্কা জানান, সেই সময় তাঁর ও নিকের জীবনে অন্য সবকিছুই গৌণ হয়ে গিয়েছিল। অভিনয়, শুটিং কিংবা পেশাগত ব্যস্ততার চেয়ে মেয়ের সুস্থতাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, নিক ও তিনি সে সময় একটি দলের মতো কাজ করেছেন। পরস্পরের সঙ্গে বেশি কথা বলার প্রয়োজন হতো না। মেয়ের যত্ন, দুধ খাওয়ানো, ডায়াপার প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পরদিনের প্রয়োজনীয় সবকিছু তাঁরা পরিকল্পনা করে রাখতেন। প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের চিন্তা ছিল মেয়ের ওজন বাড়ছে কি না এবং সে সুস্থ হয়ে উঠছে কি না।

অবশেষে বাড়ি ফেরে মালতি

দীর্ঘ চিকিৎসা ও অপেক্ষার পর মালতিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে। তবে তখনও সে ছিল খুবই ছোট ও নাজুক।

প্রিয়াঙ্কা জানান, মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের সবাই মিলে বাড়ির শিবমন্দিরের সামনে বসেছিলেন। দীর্ঘদিনের ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তখন আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখের পানিতে ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, সেই কান্না ছিল স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সন্তান বেঁচে ফিরে এসেছে এবং সুস্থভাবে বাড়িতে এসেছে—এই অনুভূতিই তাঁকে আবেগাপ্লুত করে দিয়েছিল।

এরপর বৈদিক রীতিতে হোম ও নামকরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মালতিকে পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।

মাতৃত্বের কঠিন অভিজ্ঞতা

মালতির জন্মের আগে মাতৃত্বের পথটিও সহজ ছিল না প্রিয়াঙ্কার জন্য। সহায়ক প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বলেছেন।

প্রিয়াঙ্কার মতে, সন্তানকে পৃথিবীতে আনার এই পুরো যাত্রা ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন। চিকিৎসা, ইনজেকশন, অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই তাঁকে এগোতে হয়েছে।

মেয়ের জন্মের পর নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কাটানো সময় সেই কঠিন অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর করে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত মেয়েকে সুস্থভাবে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে প্রিয়াঙ্কা মূলত সেই সব মায়ের অনুভূতিকেই সামনে এনেছেন, যাঁদের সন্তানকে জন্মের পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রাখতে হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সন্তানকে হারানোর ভয়, তাকে বাঁচিয়ে রাখার আকুতি এবং সুস্থভাবে ঘরে ফেরার পর পাওয়া অপরিসীম স্বস্তির গল্প।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews