শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮ ইরানের হামলায় মার্কিন নৌবহরের সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত: নিউইয়র্ক টাইমস বাড়ির দেয়াল ভেঙে মিলল ১২৭ কোটি টাকার স্বর্ণের ভাণ্ডার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের অবসর ভাতা পেতে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না-প্রধানমন্ত্রী নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পাইকগাছায় বনবিবির উদ্যোগে বৃক্ষরোপন চিতলমারীতে খালেদা জিয়া’র জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল বেগম খালেদা জিয়ার ৮২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:: খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মঙ্গলবার মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়। প্রত্যুষে খুলনার বয়রাস্থ মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এ উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্ল¬ামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়।
গল্ল¬ামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসির প্রশাসক, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। এসময় রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব রহমান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা উদ্বোধন করা হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা এবং নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে দিনব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। তাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তাদের অবদান ভোলার নয়।
খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মোঃ আবু জাফর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ সাকিব রায়হানের মা বেগম নুর নাহার। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে নৌ-বাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য সকাল নয়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয়। রেল, স্টিমার, লঞ্চ ও জাহাজ সজ্জিত করা হয়। জেলা ও উপজেলা সদরে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, নৌকা বাইচ, ফুটবল ও হাডুডু খেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শহিদ হাদিস পার্ক, শিববাড়ি মোড়, দৌলতপুর শহিদ মিনার, রূপসা মোড়, গল্লামারী মোড়, খালিশপুর মোড়সহ উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে সিনেমা হলসমূহে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং শহরের শহিদ হাদিস পার্কে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদযোহর সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গিলাতলা শিশুপার্ক, খুলনা রিভারভিউ পার্ক, বয়রা শিশুপার্ক, লিনিয়ার শিশুপার্ক, উল্লাস বিনোদন পার্ক ও খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশুপার্কসহ সকল পার্ক বিনাটিকেটে শিশুদের জন্য উম্মুক্ত এবং পর্যটন কেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিনা টিকিটে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর ও ফুলতলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত রাখা হয়।
বিজয় দিবসে বিকাল সাড়ে তিনটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে কেসিসি বনাম জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব রূপসাঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর বীরত্ব ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া, কবি ও সাহিত্যিকদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়।
নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। মাসব্যাপী বাংলাদেশ বেতার খুলনা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়াও দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews